চার দশক ধরে বটগাছের নিচে কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কামাল

চার দশক ধরে বটগাছের নিচে কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কামাল

মোঃ ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজারে একটি বটগাছের নিচে খোলা আকাশের তলায় প্রায় ৪০ বছর ধরে পুরনো কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন কামাল হোসেন (৫৫)। তিনি উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের সাচনা কালী বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ চার দশক ধরে কামাল হোসেন একই স্থানে বসে পুরনো কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে আসছেন। গতকাল সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিন দুপুরে সাচনা বাজারের বটগাছের নিচে তাকে কাপড় সেলাই করতে দেখা যায়।

মফিজনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ তার পুরনো জ্যাকেটের চেইন লাগানোর জন্য দর কষাকষি করছিলেন। শুরুতে ৩০ টাকা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ টাকায় চেইনটি লাগিয়ে দেন কামাল হোসেন।

আব্দুস সামাদ বলেন,ছোটবেলা থেকেই আমরা তাকে এই বটগাছের নিচে কাজ করতে দেখে আসছি। তিনি থাকায় আমাদের অনেক উপকার হয়। এখন অনেক দর্জির কাছে গেলে তারা বলে সময় নেই, দুই দিন পরে আসেন। আবার কেউ পুরনো কাপড় সেলাইই করতে চায় না। আর করলেও বেশি টাকা চায়। কামালের কাছে অল্প টাকায় কাজ করানো যায়।

এদিকে উপজেলার লম্বাবাঁক গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ ধান শুকানোর কাজে ব্যবহারের জন্য একটি মোটা প্লাস্টিকের ত্রিপাল সেলাই করাতে আসেন। দর কষাকষির পর ১৫০ টাকায় কাজটি সম্পন্ন করেন কামাল হোসেন।

সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী রিপন শিকদার বলেন,সারাদিন কাজ শেষে তিনি তার সেলাই মেশিনটি আমার দোকানে রেখে যান। সকালে এসে আবার নিয়ে বটগাছের নিচে বসেন।

বটগাছের নিচে সেলাইরত অবস্থায় কথা হলে মোঃ কামাল হোসেন জানান, বাড়ির ভিটা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। সেলাই কাজ করে দিনে তিন-চারশ টাকা আয় হয়। আগে এই আয় দিয়ে মোটামুটি ভালোই চলতো সংসার। এখন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। এই কাজ করেই দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এক ছেলে গার্মেন্টসে কাজ করে, তার বেতন আট হাজার টাকা। ঝড়-বৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ থাকে। বর্ষাকালে প্রায়ই বৃষ্টির কারণে আয় হয় না। তখন ধারদেনা করে চলতে হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও কমে যাচ্ছে। সরকারি কোনো সাহায্য পাই না, খুব কষ্টে দিন কাটছে।

সাচনা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদ বলেন, কামাল হোসেন প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বটগাছের নিচে পুরনো কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। বৃদ্ধ বয়সেও সংসারের টানাপোড়নে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। আমি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—তাকে যেন যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাব্বির সারোয়ার বলেন,“তার বয়স ৬৫ বছর হলে বয়স্ক ভাতা দেওয়া যেত। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তিনি আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff